- Advertisment -
HomelifestyleHealthসুগার থাকবে নিয়ন্ত্রণে, খাদ্য তালিকায় অবশ্যই রাখুন এই ১০ সুপারফুড!

সুগার থাকবে নিয়ন্ত্রণে, খাদ্য তালিকায় অবশ্যই রাখুন এই ১০ সুপারফুড!

ডায়াবেটিস শব্দটির সাথে আমরা সকলেই পরিচিত৷  আট থেকে আশি সকলেই এই রোগের সাথে পরিচিত৷ এমন কোনো পরিবার নেই, যেখানে কোনো ডায়াবেটিসের (Diabetes) রোগী নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ডায়াবেটিস এমন একটি মহামারি রোগ, যা চিকিত্সকের পরামর্শে নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও এর হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। 

একজন ডায়াবেটিস (Diabetes) রোগী যদি ঠিক সময়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন, তবে তার চোখ, হৃদ্‌যন্ত্রের, কিডনি, রক্তনালি ও স্নায়ু সমস্যাসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলোঃ
ডায়াবেটিস (Diabetes) রোগের সাধারণ কিছু লক্ষণ রয়েছে৷ নিচে উল্লেখিত ডায়াবেটিস এর লক্ষণগুলো যদি আপনার হয় তাহলে সত্ত্বর ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেবেন৷ ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো হলো:

  • ১. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
  • ২. তৃষ্ণার্ত হওয়া
  • ৩. চোখে ঝাপসা দেখা
  • ৪. নিয়মিত  ঘন ঘন খিদে পাওয়া
  • ৫. প্রচণ্ড ক্লান্ত অনুভব করা
  • ৬. শরীরের কোনো অংশের ক্ষতের দীর্ঘ সময় ধরে নিরাময় বা ঘন ঘন সংক্রমণ
  • ৭. হাতে-পায়ে ব্যথা বা মাঝে মাঝে অবশ হয়ে যাওয়া
  • ৮. সঠিক পরিমানে খাদ্য গ্রহন করা সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া
  • ৯. বিরক্তি ও মেজাজ খিটখিটে  হয়ে যাওয়া
  • ১০. মিষ্টি জাতীয় জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া
  • ১১. চামড়ায় শুষ্কতা, খসখসে ও চুলকানি ভাব

ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হলে দৈনন্দিন-জীবন যাপনের সাথে সাথে অনেক খাবারের উপরেও চিরদিনের মত দাঁড়ি পরে যায়৷ তখন মিষ্টিতো দূরের কথা ভাত, আলু, ফ্যাট জাতীয় খাবার, কোল্ড ড্রিঙ্কস, জুস, তৈলাক্ত মাছ, ডিম এগুলোর থেকেও দূরে থাকতে হয়৷

এই সময়ে কি কি খাবার খাওয়া উচিত, আসুন সেগুলো একবার দেখে নেওয়া যাক – Diet For Diabetes

অ্যালোভেরা
অ্যালোভেরা জেল, হলুদ, তেজপাতা ও  জলের সঙ্গে মিশিয়ে দিনে দুবার পান করুন। অ্যালোভেরা জেলে ফাইটোস্ট্যারলস নামক শক্তিশালী উপাদান থাকে যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

করলা
দুই বা তিনটি করলার বীজগুলি ফেলে দিয়ে রস বের করে নিন। করলার রসের সঙ্গে জল মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খান। করলা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ইনসুলিনের নিঃসরণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে করলা। এটি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে পারে।

মেথি
ডায়াবেটিসের সবচেয়ে ভালো একটি প্রতিকার হচ্ছে মেথি। ২ টেবিল চামচ মেথি বীজ ১ গ্লাস জলে ভিজিয়ে রাখুন সারা রাত৷ সকালে মেথি বীজ-সহ জল পান করুন। । মেথি বীজের জৈব উপাদান ইনসুলিনকে উদ্দীপিত করে। এছাড়াও এতে উচ্চ মাত্রার ফাইবার থাকে বলে স্টার্চকে গ্লুকোজে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ধীর করে যা ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের সাহায্য করে।

আম পাতা
আম পাতা শুকিয়ে গুঁড়া করে রাখতে পারেন। দিনে দুবার আধা চামচ করে এই আম পাতার গুঁড়ো খেতে পারেন। এছাড়াও ৩-৪ টি আম পাতা জলে ফুটিয়ে নিন। প্রতিদিন সকালে এই মিশ্রণটি খেলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

দারচিনি
যাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য দারচিনি খুবই উপকারী৷ দারচিনির গুঁড়ো চা, জল বা অন্য পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে পান করতে পারেন। এটি অগ্নাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে উদ্দীপ্ত করে এবং রক্তের সুগার লেভেল কমায়৷

আমলকি
 ভেষজ গুণ রয়েছে অনেক। আমলকিতে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ থাকে। রোজ সকালে উঠে যদি একটা গোটা আমলকি খাওয়া যায়, তাহলে শরীরের পক্ষে খুবই ভাল। শুধুই ফলই না, পাতাও ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

শসা
ইউএসডিএ অনুসারে শসাতে ১০ ক্যালরি থাকে৷ রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়লে শসা খেতে পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। প্রতিদিনের ডায়েটে শসা রাখলে সুগার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। এটি ছাড়াও হজমের ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে শসা।

জাম
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে জামের বীজ। জাম ফলের মত গুরুত্বপূর্ণ এই ফলের বীজও। জাম ও তার বীজে রয়েছে জাম্বোলাইন ও জাম্বোসাইন নামক পদার্থ যা রক্তে শর্করার পরিমান কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া জামের বীজে রয়েছে প্রোফাইল্যাকটিক ক্ষমতা যা হাইপারগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে। ফলে রোগীদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় জামের বীজ রাখা দরকার। আয়ুর্বেদশাস্ত্রের মতে, জাম রয়েছে অ্যাসট্রিনজেন্ট অ্যান্টি-ডিউরেটিক, যা ঘন ঘন মূত্রত্যাগ কমাতে সাহায্য করে। হাইপোগ্লাইসেমিক গুণ আছে যা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পূর্ণ যা ডায়াবেটিসে উপকারী।

ত্রিফলা
ত্রিফলা হল ৩ ফলের মিশ্রন। আমলকি, হরিতকি এবং বহেরা, এই ৩ ফল শুকিয়ে তাদের চূর্ণ একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি হয় ত্রিফলার মিশ্রন। সুগার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে৷

বাদাম
ডায়াবেটিস রোগীদের পক্ষে বাদাম খাওয়া ভালো। খুব কম পরিমাণে (এক বা দুটি কাজু) কাজু খান তবে এ জাতীয় রোগীদের জন্য বাদাম খুব উপকারী।

এছাড়াও আরো কিছু জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, সেগুলি হল-

  • ১. প্রতিদিন এক ঘণ্টা হাঁটুন৷
  • ২. যাদের পরিবার বা বাবা-মায়ের ডায়াবেটিস হওয়ার ইতিহাস রয়েছে, তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই জীবনযাপনের ধরন পাল্টানো উচিত। তাই জীবনধারা পাল্টে দিন৷
  • ৩. ধূমপান ও মদ্যপান ছেড়ে দিন৷
  • ৪. মিষ্টি পরিহার করুন৷
  • ৫. রক্তে চিনির মাত্রার ওপর নজর রাখুন৷ 

আরো পড়ুন: শশার এই ৫টি রেসিপিতে আজই ঝরিয়ে ফেলুন শরীরের অতিরিক্ত মেদ !

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরে বা অন্ধকার দেখেন? জেনে নিন আসল...

বিশেষজ্ঞরা বলছেন (Dizziness) এটিকে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়, কারণ এর ফলে ভবিষ্যতে বড় বিপদ হতে পারে।

ঘুমোতে যাবার সময় কি অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার করেন, তাহলে জেনে নিন...

ঘুমের সময় যদি আমাদের গান শুনতে ইচ্ছা করে তাহলে ফোনটিকে দূরে রেখে ব্লুটুথ স্পিকার ব্যবহার করা উচিত অথবা ইয়ারবাড ব্যবহার করা উচিত।

ভিটামিন ক্যাপসুল এর কাজ করতে পারে কাঁঠালের বীজ, বাড়বে ইমিউনিটি

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভ্যাকসিন পাওয়ার অপেক্ষায় গোটা দেশ। হয়তো ভ্যাকসিন পাওয়ার আগেই আক্রান্ত...

রাত্রে ঘুম আসেনা? জেনে নিন ৫ মিনিটে ঘুমিয়ে পরার একটি অব্যর্থ...

যেকোনো রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য উপযুক্ত পথ্য এবং পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরী।...